যাদের এই স্ট্রাটেজির ১ম পর্ব পড়া হয়নি তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে ১ম পর্ব পড়ে দেখার জন্যে।
১ম পর্ব পর্ব পাবেন এখানে ১ম পর্ব
২য় পর্বঃ
আসসালামু আলাইকুম। আজ শুরু করছি সুইং স্ট্রাটেজির ২য় ও শেষ পর্ব
সুইং ট্রেড সহ অন্যান্য ট্রেডিং মেথড এর ট্রেড এন্ট্রি ও এক্সিট এর জন্যে অতি প্রয়োজনিয় ৫ টি বুলিশ ও ৫ টি বিয়ারিশ ক্যান্ডেল পরিচিতি (যা লাগবেই) –
নিচে এই অতি গুরুত্যপুর্ন ৫ টি ক্যান্ডেল এর ছবি দেয়া হলো । ক্যান্ডেল এর ব্যাপারে বিস্তারিত লিখতে পারলে ভাল হতো কিন্তু তা করতে গেলে পোস্ট টি বেশি বড় হয়ে যাবে তাই আর কিছু লিখলাম না । তবে বিডিপিপস এ শ্রদ্ধ্যেয় নাসিম ভাই এর লেখা ক্যান্ডেলস্টিক এর উপর একটি বই আছে । আপনারা যারা ক্যান্ডেলস্টিক সম্পর্কে খুব একটা ভাল জানেন না তাদের অনুরোধ রইল অন্তত নিচের এই ৫ টি ক্যান্ডেল সম্পর্কে খুব ভাল করে পড়াশুনা করার জন্যে। ক্যান্ডেল স্টিক এর ব্যাপারে ডিটেইল্ড নলেজ এর কোনো বিকল্প নাই ।
এই স্ট্রাটেজি টি বিশ্বের প্রায় সব নামি দামি ট্রেডার রা ব্যাবহার করে থাকেন।ফলে আপনি কনফিডেন্টলি ট্রেড ওপেন করতে পারবেন কারন প্রায় সবাই এই মেথড টি ফলো করায় এখানে মার্কেট ভলিউম আপনার ট্রেড এর পক্ষেই থাকবে।
আপনি কোনো ট্রেড এন্ট্রি মিস করলেও পরবর্তি সুইং হাই বা সুইং লো লেভেল এ আপনি যথাক্রমে সেল ও বায় ট্রেড এন্ট্রি এর সুযোগ পাচ্ছেন।
যতক্ষন আপনি ট্রেন্ড ফলো করছেন ততক্ষন আপনি অনুমান করতে পারছেন যে পরবর্তি ট্রেড এন্ট্রি বা এক্সিট পয়েন্ট কোথায় বা কখন আপনাকে বের হয়ে যেতে হবে প্রফিট নিয়ে।
এই মেথড টি প্রায় সম্পুর্ন রুপে হিজিবিজি রংচং ওয়ালা ইন্ডিকেটর মুক্ত। এই মেথড এ একদম পরিস্কার চার্ট এবং শুধু ২ টা মুভিং এভারেজ ব্যাবহার করা হয়েছে যা বিশ্বের প্রায় সকল প্রফেশনাল ট্রেডার রা ব্যাবহার করে থাকে যার ফলে আপনি প্রাইস একশন নিয়ে ও আলাদা করে ভাবতে হচ্ছে না। ফলে আপনি যে যায়গায় একটি এন্ট্রি সিগনাল দেখতে পাচ্ছেন অন্য সবাই ঠিক সেরকম টা ই দেখতে পাচ্ছে ফলে ফলে আপনি মার্কেট এর পক্ষেই থাকছেন।
মুভিং এভারেজ গুলো আপনাকে ডাইনামিক সাপোর্ট রেসিস্ট্যান্ট হিসেবে ট্রেড এন্ট্রি ও এক্সিট সিগনাল প্রদান করবে। সাপর্ট রেসিস্ট্যান্ট নিয়ে আলাদা করে মাথা ঘামাতে হবে না।
আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনি কোনো একটা পেয়ার এ ট্রেন্ড এর শেষ হওয়ার সাথে সাথে অন্য আরেকটা ট্রেন্ড ধরে ফেলতে পারবেন। তার মানে আপনি সারাক্ষন ই মার্কেট এর সাথে থাকছেন।
নিচে এর একটা উদাহরন দেয়া হলো-
প্রথমে চার্ট নং-১ এ খেয়াল করুন আমরা GBPUSD এর একটি ডাউনট্রেন্ড দেখতে পাচ্ছি।
চার্ট -১ এ আমরা লোয়ার হাই ৩ থেকে ৭ পর্যন্ত ৫ টি সেল সিগনাল দেখতে পাচ্ছি। আপনি এর যে কোনো একটি মিস করলেও পরবর্তি তে ঠিক ই সুজুগ পেতেন সেল এন্ট্রি নেয়ার আর এটাই সুইং ট্রেডিং এর মজা।
যাই হোক, এবার নিচে পরবর্তি চার্ট-২ এর দিকে খেয়াল করুন যা আগের চার্ট এর ৭ নং এন্ট্রি এর পরের চিত্র
চার্ট -২ এ আমরা দেখতে পাচ্ছি যে আগের চার্ট এর লোয়ার হাই ৭ থেকে এখানে লোয়ার হাই-১১ পর্যন্ত আমরা আরো কিছু সেল সিগনাল পাচ্ছি। কিন্তু এখানে LH-11 এর পর প্রাইস লোয়ার লো তৈরি করে এবার মুভিং এভারেজ এর উপরে চলে গিয়েছে এবং মুভিং এভারেজ এর উপরেই একটা বিয়ারিশ এঙ্গালফিং ক্যানডেল দিয়েছে আর সে তার আগের টপ বা রেসিস্ট্যান্ট যা LH-11 ছিল তার উপরে চলে গিয়েছে। তাই এখন আমরা ধরে নিতে পারি যে ডাউন ট্রেন্ড শেষ হয়ে গেছে।
এবার আমরা এর পরবর্তি আপডেট দেখতে নিচে চার্ট-৩ এ দেখব
উপরের ৩নং চার্ট এ আমরা দেখতে পাচ্ছি যে মুভিং এভারেজ এর উপরে টপ লেভেল তৈরি করে প্রাইস নিচে নেমে গেছে কিন্তু তার আগের বটম বা সাপর্ট লেভেল কে অতিক্রম করতে পারে নি এবং একটি শক্তিশালি বুলিশ পিন বার তৈরি হয়েছে তার বটম এ এবং তারপর মার্কেট প্রাইস উপরের দিকে উঠতে শুরু করেছে এবং নতুন হায়ার হাই-২ তৈরি করেছে। এভাবে HL-2, HH-3 তৈরি করেছে। এবং আমরা হায়ার লো-৩ ও তৈরি হতে দেখলাম এবং এই পয়েন্ট থেকেই আমরা বায় এন্ট্রি নিতে শুরু করব। এভাবে আমরা এখন একটি কনফার্মড বুলিশ আপট্রেন্ড পেলাম।
সুতরাং , দেখা যাচ্ছে যে একটি ডাউন ট্রেন্ড এ আমরা বেশ অনেকবার সুজুগ পেলাম সেল ট্রেড নেয়ার এবং ট্রেন্ড টির সমাপ্তি ও বুঝতে পারলাম মুভিং এভারেজ ও প্রাইস একশন এর মাধ্যমে এবং পরবর্তিতে আমরা একই চার্ট এ নতুন আরেকটি বুলিশ ট্রেন্ড পেয়ে গেলাম। এভাবে আমরা কনফিডেন্টলি একটার পর একটা ট্রেড এন্ট্রি নিতে পারব সুইং ট্রেডিং এর মাধ্যমে।
ট্রেড এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্ট
এতক্ষন আমরা সুইং ট্রেডিং এর এর ব্যাপারে বিস্তারিত জেনেছি।তবে এর কোনো কিছুই কোনো কাজে আসবে না যতক্ষন না পর্যন্ত আপনি ট্রেড এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্ট এর ব্যাপারে ডিসিপ্লিন্ড হবেন। সুইং ট্রেড এর এন্ট্রি এর বেলায় যে সব বিষয় অবস্যই মেনে চলতে হবে তা হলো –
আপ ট্রেন্ড এর ক্ষেত্রে ট্রেড এন্ট্রি ও টেইক প্রফিট লেভেলঃ
এন্ট্রি পয়েন্টঃ
অবশ্যই ২ টি হায়ার হাই Higher High (HH) বা টপ লেভেল ও ২ টি হায়ার লো Higher Low (HL) বা বটম লেভেল থাকতে হবে ট্রেন্ড কনফার্ম এর জন্যে।
(HH) এবং (HL) এদের সবাইকেই মুভিং এভারেজ (EMA-30 & , or EMA-50) এর উপর থাকতে হবে।
HH-২ কে HH-1 এর উপরে থাকতে হবে এবং HL-3 অর্থাৎ আমরা যেই লেভেলে ট্রেড এন্ট্রি নেব তাকে তার আগের বটম লেভেল বা HL-2 এর উপরে থাকতে হবে।
৩ নং হায়ার লো (HL) তে বায় ট্রেড এন্ট্রি নিতে হবে তবে এজন্যে শক্তিশালি বুলিশ ক্যান্ডেল থাকতে হবে (যেমনঃ পিন বার, এঙ্গালফিং, পিয়েরসিং, ডজি)
এক্সিট পয়েন্ট বা টেইক প্রফিট (TP):
টিপি সেট করতে হবে তার আগের হায়ার হাই লেভেল এ
অথবা যতক্ষন পর্যন্ত না কোনো শক্তিশালি বিয়ারিশ ক্যান্ডেল ফর্ম হয়। কারন যখনই প্রাইস বাড়তে বাড়তে এমন একটা অবস্থানে বা প্রাইস লেভেলে যাবে যেটা হয়তো আগের কোনো সাপোর্ট ছিল বা ফিবনাচ্চি প্রাইস প্রেডিকশন লেভেল এ ছিল সেখানে তাই সব বায়ার রা ট্রেড ক্লোজ করে দিবে এবং এর ফলে মার্কেট এ বিয়ারিশ ক্যান্ডেল ফর্ম হবে এবং প্রাইস তখন ডাউন রিট্রে্সমেন্ট এর জন্যে তৈরি হবে তাই এরকম অবস্থায় যদি আপনি কোনো শক্তিশালি বিয়ারিশ ক্যান্ডেল ফর্ম হতে দেখে থাকেন তবে আপনার ট্রেড ক্লোজ করে প্রফিট নিয়ে বের হয়ে যেতে পারেন ।
আপনারা চাইলে ফিবোনাচ্চি প্রোজেকশন টুল দিয়ে ও ট্রেড হোল্ডিং পয়েন্ট নির্নয় করতে পারেন।
স্টপ লসঃ
স্টপ লস সেট করতে হবে এন্ট্রি ক্যান্ডেল এর সরবনিম্ন প্রাইস এর চেয়ে ও ৫/১০ পিপস নিচে।
অথবা এন্ট্রি পয়েন্ট এর মুভিং এভারেজ এর ৫/১০ পিপস নিচে।
নিচে একটি উদাহরন দেয়া হলো আপ ট্রেন্ড এর এন্ট্রি, টিপি, এস এল সম্পর্কে –
ডাউন ট্রেন্ড এর ক্ষেত্রে ট্রেড এন্ট্রি পয়েন্টঃ
এন্ট্রি পয়েন্টঃ
অবশ্যই ২ টি লোয়ার হাই Lower High (LH) বা উপর থেকে নিচের দিকে ২ টি টপ লেভেল ও ২ টি লোয়ার লো Lower Low (LL) বা বটম লেভেল থাকতে হবে ট্রেন্ড কনফার্ম এর জন্যে।
(LH) এবং (LL) এদের সবাইকেই মুভিং এভারেজ (EMA-30 & , or EMA-50) এর নিচে থাকতে হবে।
LL-2 কে LL-1 এর নিচে থাকতে হবে এবং আমরা ৩ নং লোয়ার হাই তে সেল নিব এবং লোয়ার হাই ৩ (LH-3) কে তার আগের লোয়ার হাই (LH-2) এর নিচে থাকতে হবে।
৩ নং লোয়ার হাই (LH) তে সেল ট্রেড এন্ট্রি নিতে হবে তবে এজন্যে শক্তিশালি বিয়ারিশ ক্যান্ডেল থাকতে হবে (যেমনঃ পিন বার, এঙ্গালফিং, পিয়েরসিং, ডজি)
এক্সিট পয়েন্ট বা টেইক প্রফিট (TP):
টিপি সেট করতে হবে তার আগের Lower Low(LL) লেভেল এ
অথবা যতক্ষন পর্যন্ত না কোনো শক্তিশালি Bullish or Doji ক্যান্ডেল ফর্ম হয়।
স্টপ লসঃ
স্টপ লস সেট করতে হবে এন্ট্রি ক্যান্ডেল এর সর্বচ্চ প্রাইস এর চেয়ে ও ৫/১০ পিপস উপরে।
অথবা এন্ট্রি পয়েন্ট এর মুভিং এভারেজ এর ৫/১০ পিপস উপরে।
নিচে ডাউন ট্রেন্ড এর এন্ট্রি , এস এল, টিপি এর একটি উদাহরন দেয়া হলো । চার্ট টি খেয়াল করুন-
তো আমরা দেখলাম যে কিভাবে কোন পয়েন্টে ট্রেড এন্ট্রি নিতে হবে ,কোথায় এস এল বসাতে হবে আর কোথায় প্রফিট নিয়ে বের হয়ে যেতে হবে।
কখন বুঝবেন যে ট্রেন্ড এর সমাপ্তি ঘটছেঃ
ট্রেন্ড এর সমাপ্তি বুঝার জন্যে আপনাকে সাপোর্ট ও রেসিস্ট্যান্ট এর উপর ভাল ধারনা থাকতে হবে। যেমন – কোনো আপট্রেন্ড মার্কেটে প্রত্যেক হায়ার হাই লেভেল বা টপ লেভেল এর ক্ষেত্রে ২ নং হায়ার হাই/টপ কে ১ নং এর উপরে থাকতে হবে , আবার ৩ নং HH কে ২ নং এর উপর থাকতে হবে। এভাবে প্রত্যেক হায়ার হাইস (HH) এবং হায়ার লো (HL) কে তার আগের (HH) ,(HL) এর উপর থাকতে হবে। কিন্তু যদি কখনো দেখা যায় যে একটি হায়ার হাই তার আগের হায়ার হাই বা সর্বোচ্চ লেভেল কে ক্রস করে উপরে উঠতে পারে নি এবং নতুন হায়ার হাই বা টপ লেভেল তৈরি করতে পারে নি তবে আমাদেরকে সাবধান হয়ে যেতে হবে এবং দেখতে হবে যে নতুন হায়ার লো বা বটম লেভেল তার আগের বটম লেভেল বা হায়ার লো এর উপরে ফর্ম হয় কিনা। কিন্তু যদি দেখা যায় যে আমরা নতুন হায়ার লো পেলাম না অর্থাৎ নতুন তৈরি হওয়া বটম লেভেল বা তার আগের হায়ার লো (HL) এর উপরে যেতে পারে নি এবং প্রাইস তার আগের হায়ার লো এর নিচে গিয়ে ক্লোজ হয়েছে তবে আমরা আমাদের সব বায় ট্রেড ক্লোজ করে দিয়ে সেল ট্রেড এর অপরচুনিটি খুজব।
মুভিং এভারেজ এর মাধ্যমেও এটা করা যায় যেমন মুভিং এভারেজ এর নিচে যদি হায়ার লো ফর্ম হয় তবে আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হবে এটা দেখার জন্যে যে নতুন করে যে টপ লেভেল তৈরি হবে সেটা তার আগের হায়ার হাই কে ক্রস করে উপরে চলে যেতে পারে কিনা। কিন্তু যদি দেখা যায় যে নতুন টপ লেভেল ও মুভং এভারেজ এর নিচে চলে এসেছে অর্থাৎ হায়ার হাই এবং হায়ার লো ২ টা এ যদি তাদের আগের হায়ার হাই ও হায়ার লো কে ক্রস করতে না পারে এবং মুভিং এভারেজ এর নিচে চলে আসে তবে আমাদেরকে বুঝে নিতে হবে যে মার্কেট এর আপ ট্রেন্ড শেষ হয়ে এখন ডাউন ট্রেন্ড এর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।
নিচে চার্ট এর মাধ্যমে ব্যাপার টা আরো ডিটেইল্ড দেখানো হলোঃ
এভাবে আপনি ডাউন ট্রেন্ড এর সমাপ্তি ও বের করতে পারবেন। ডাউন ট্রেন্ড এর বেলায় লোয়ার হাই (LH) ও লোয়ার লো(LL) প্রত্যেক কেই পর্যায় ক্রমে নিচে অবস্থান করতে হবে।
এই সিস্টেম টি চাইলে আরো মডিফাই করা যায় ফিবোনাচ্চি দিয়ে। আপনি কোনো একটা ট্রেড এন্ট্রি নিয়ে সেটা কোন লেভেল পর্যন্ত হোল্ড করে রাখবেন তা আপনি ফিবনাচ্চি প্রোজেকশন টুল এর মাধ্যমে বের করতে পারবেন আর ফিবোনাচ্চি প্রসঙ্গে বিডিপিপস এ বিস্তারিত আর্টিক্যাল আছে প্রয়জনে দেখে নিতে পারেন। এবং ট্রেড ফিল্টার এর জন্যে RSI , Stochastic , Volume ইন্ডিকেটর ব্যাবহার করা যেতে পারে । তবে আমি এত সব কিছুর উল্যেখ করি নি কারন তাতে সিস্টেম টা অনেক ঝামেলার হয়ে যাবে আর এছাড়াও আরো কিছু সমস্যা হবে।
যেমন- আপনি যখন একটি ইন্ডিকেটরও এই সিস্টেম এ ইনক্লুড করবেন তখন আপনার ট্রেড এন্ট্রি এক্সিট এর জন্যে আপনি এক্সট্রা আরেকটা টুল এর উপর ডিপেন্ডেন্ট হয়ে পড়বেন।আর এতে আপনি অনেক সময় কনফিউজড হয়ে পড়বেন কারন আপনাকে তখন একটা ট্রেড এন্ট্রি এর জন্যে বেশ অনেক গুলা বিষয়ে মাথা ঘামাতে হবে যার কোনো প্রয়োজনিয়তা আমি দেখি না।আর আপনি যেই ইন্ডিকেটর ই ব্যাবহার করেন না কেন আপনি ট্রেড এন্ট্রি নেয়ার সময় কিছুটা কনফিউজড হবেনই কারন ইন্ডিকেটর সবসময়ই দেরিতে সিগন্যাল দেয় কিন্তু লাইভ ক্যান্ডেল দেখে ট্রেড এন্ট্রি নিলে আপনি একদম প্রথম দিকেই ট্রেড এন্ট্রি নিয়ে নিতে পারবেন।তবে আপনি চাইলে ইন্ডিকেটর ব্যাবহার করতে পারেন যদি আপনি খুব দক্ষ হয়ে থাকেন এবং আপনার ট্রেডিং ইমোশন কে কন্ট্রোল করতে পারেন। তবে আমি যতটুকু দেখিয়েছি ততোটুকুই যথেস্ট যদি আপনারা এটা ভালভাবে প্রেকটিস করতে পারেন ।
বলিউডের ‘চাঁদনী চক টু চায়না’ মুভি তে ইন্সপেক্টর চেং এর একটা কথা আমার খুব ভাল লেগেছিল । তিনি বলেছিলেন যে ‘তোমার সেই ১০০ মুভ এ আমার ভয় নেই যা তুমি একবার প্র্যাকটিস করেছ , আমার সেই ১ টি মুভ এই ভয় যা তুমি ১০০ বার প্র্যাকটিস করেছ’ । ফরেক্স এ টিকে থাকার জন্যে প্রত্যেক এর উচিত এরকম করে ভাল একটি স্ট্রাটেজি কে বার বার প্র্যাক্টিস করা যতো সময় ই লাগুক না কেনো যাতে করে কোনো একটি চার্ট দেখেই আমরা বলে দিতে পারি যে মার্কেট এর বর্তমান সিচুয়েশন এবং ভবিশ্যতে কি হতে পারে।
আর সুইং ট্রেডিং এর মত প্রাইস একশন ট্রেডিং স্ট্রাটেজি খুব কম ই আছে আর আমি যেটা শেয়ার করলাম তা প্রায় ৯০% এক্যুরিটি দিবে যদি এর প্রত্যেক নিয়ম খুব ভাল ভাবে ফলো করতে পারেন। আপনারা আপনাদের চার্ট কে সাজিয়ে নিয়ে অতিতের চার্ট গুলো স্ক্রল করে এরকম ট্রেন্ড খুজে বের করে করে প্র্যাক্টিস করে নিবেন এই স্ট্রাটেজি ভাল করে আয়ত্ত করতে চাইলে।
প্রত্যেক হায়ার টাইম ফ্রেম (H4,Daily, Weakly ) এবং প্রায় সব হায়ার ট্রেড ভলিউম এর পেয়ার এরকম ট্রেন্ড ফলো করে। যেমন EURUSD , EURJPY , GBPUSD , GBPGPY , AUDUSD ইত্যাদি। প্রতি পেয়ার এবং সব হায়ার টাইম ফ্রেম এ আপনি প্রতি মাসেই এরকম ট্রেন্ডিং দেখতে পাবেন যার প্রত্যেক ভ্যালিড সুইং লেভেল গুলোতে আপনি ট্রেড এন্ট্রি নেয়ার সুজোগ পাবেন তাই আপনি যদি ফরেক্স মার্কেটে এখনো পর্যন্ত অনেক লস করে করে নিজের এবং ফরেক্সের উপর থেকে আস্থা হাড়িয়ে ফেলে থাকেন তবে এই স্ট্রাটেজি টি আপনার খুব ভাল ভাবে প্র্যাক্টিস করা উচিত কারন এটা প্রায় সব প্রোফেশনাল ট্রেডার দের দ্বারা ভেরিফাইড এবং আপনি এতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে অন্য যে কোনো স্ট্রাটেজি আপনি খুব সহজেই বুঝতে পারবেন এবং নিজে নিজে মার্কেট এনালাইস করতে পারবেন কারন এটা একই সাথে ট্রেন্ডিং,সুইং এবং পরিস্কার চার্ট সমৃদ্ধ একটি পরিপুর্ন প্রাইস একশন স্ট্রাটেজি।
ভবিশ্যতে সময় ও সুজুগ পেলে টেকনিক্যাল চার্ট এনালাইসিস ও আরো কিছু স্ট্রাটেজিক প্ল্যান আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ। সে পর্যন্ত সবাই ভাল থাকবেন ও আমার জন্যে দোয়া করবেন। স্ট্রাটেজি টা লিখতে গিয়ে যে সময় ও কস্ট ব্যয় হয়েছে তার পুরোটাই সার্থক হবে যদি আপনারা এই স্ট্রাটেজির সুফল পেয়ে থাকেন।
পোস্ট এবং স্ট্রাটেজি সম্পর্কে আপনাদের কোনো প্রশ্ন ,পরামর্শ বা মন্তব্য থাকলে কমেন্টে তা লিখে জানানোর অনুরোধ রইলো ।
আসসালামু আলাইকুম। :)
যাদের এই স্ট্রাটেজির ১ম পর্ব পড়া হয়নি তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে ১ম পর্ব পড়ে দেখার জন্যে।
১ম পর্ব পর্ব পাবেন এখানে ১ম পর্ব
ফরেক্স সম্পর্কিত কোনো জিজ্ঞাসা বা পরামর্শ থাকলে আমাকে ফোন করতে পারেনঃ ০১৬৮০ ৭৪৩২৩৮







শুভেচ্ছা জানাচ্ছি,
ReplyDeleteআমি হেমা ইন্সটাফরেক্স পার্টনার ম্যানেজার।
আমরা আপনাকে প্রস্তাব জানাতে চাই ইন্সটাফরেক্স পার্টনার প্রোগ্রামে যেখানে আপনি কমিশন পাবেন আপনার প্রতিটা গ্রাহক থেকে। গ্রাহকদের থেকে প্রাপ্ত কমিশন আপনার অ্যাকাউন্ট এ জমা হয়ে যাবে যেটা আপনি সহজেই উত্তোলন করতে পাড়বেন। এর জন্য আপনাকে কোন ইনভেস্ট বা ট্রেড করতে হবে না ।
আপনি যদি আগ্রহী হন অথবা যদি কোন প্রশ্ন থাকে নিঃসংকোচে আমার সাথে যোগাযোগ করুন, আমরা কৃতার্থ হব আমাদের পরস্পরের লাভ সম্পর্কে আলোচনা করতে । আমাদের এই প্রস্তাব সম্পর্কে আপনার মতামত অবশ্যই আমাকে জানাবেন।
ধন্যবাদ। অপেক্ষা করছি আপনার আগ্রহ সম্পর্কে জানতে।